‘পরিবেশ নিয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে দেখলাম, আমরা পরিবেশকে যখনই খারাপ কিছু দিচ্ছি, পরিবেশও আমাদের খারাপ কিছু ফিরিয়ে দিচ্ছে’, বলছিলেন এনভায়রনমেন্টাল ক্লাব অব জাককানইবির সভাপতি মুহতাসিম আহমেদ। এই বিষয়টিকে সবার সামনে তুলে ধরতেই ‘প্লাস্টিকের বিনিময়ে বই’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) এই ক্লাব। শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের প্লাস্টিক কুড়িয়ে এনে জমা দিয়েছেন, বিনিময়ে পেয়েছেন বই। পরিবেশের জন্য ভালো কিছু করলে ভালো কিছু পাওয়া যায়—এই ছিল পুরো কার্যক্রমের মূল বার্তা। পরিবেশবিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংগঠন এনভায়রনমেন্টাল ক্লাব অব জাককানইবির পক্ষ থেকে উদ্যোগটি নেওয়া হয়।

ক্লাবটি যাত্রা শুরু করে ৩০ মে। ৬ দিনের মাথায় এই ব্যতিক্রমী কার্যক্রম হাতে নেয় তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের জয়বাংলা চত্বরে বসেছিল প্লাস্টিক সংগ্রহের স্টল। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলে তাদের কার্যক্রম। ন্যূনতম ২৫০ গ্রাম প্লাস্টিকের বিনিময়ে উপহার হিসেবে মিলেছে একটি বই। ক্লাবের সভাপতি মুহতাসিম আহমেদ জানান, সব মিলিয়ে ৩৯ কেজি প্লাস্টিক সংগ্রহ করেছেন তাঁরা।

প্লাস্টিক দ্রব্যের বিনিময়ে বাংলা ও ইংরেজি সাহিত্যের সব ধরনের বই যেন উপহার হিসেবে দেওয়া যায়, সেই চেষ্টা ছিল। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, হুমায়ূন আহমেদের বই যেমন ছিল, তেমনি ছিল পাওলো কোয়েলহো, রলফ ডোবেলিসহ বিখ্যাত লেখকদের অনুবাদ গ্রন্থ। সবগুলো বই আবার একেবারে নতুন। অর্থাৎ পুরোনো, অব্যবহৃত, অকেজো প্লাস্টিকের বিনিময়ে নতুন, ঝকঝকে বই পেয়েছেন বিনিময় কার্যক্রমে অংশ নেওয়া ৮০ জনের বেশি শিক্ষার্থী।

ক্লাবের প্রথম আয়োজন, খুব বেশি শিক্ষার্থীর সম্পৃক্ততা হয়তো থাকবে না—এমনটাই ভেবেছিলেন সবাই। তা ছাড়া প্রচারণার জন্যও তেমন সময় পাওয়া যায়নি। কিন্তু প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি সাড়া পেয়েছেন বলে জানান মুহতাসিম আহমেদ। শুধু পরিবেশ দিবসেই নয়, বছরব্যাপী এ ধরনের সচেতনতামূলক আয়োজনের পরিকল্পনা তাঁদের আছে।